ভয়ংকর ৫টি মরুভূমি যেখানে আটকে পড়ার কথা কল্পনাও করবেন না

মরুভূমির নাম শুনলেই চোখের সামনে প্রাণহীন বিস্তির্ণ বালিয়ারির দৃশ্য ভেসে উঠে। যদিও মরুভূমি একেবারেই প্রাণহীন নয় কিন্তু বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর এবং খুনে জায়গাগুলোর মধ্যে মরুভূমির নিষ্ঠুরতার কোনো তুলনা হয়না। এদের মধ্যে কিছু মরুভূমি রয়েছে যা বাস্তবিকই নরকতুল্য। এমন ভয়ংকর ৫টি মরুভূমি নিয়ে থাকছে এই প্রতিবেদন।



বিশ্বের ভয়ংকর ৫টি মরুভূমি নিয়ে তথ্যচিত্র দেখুন বাংলায়-



ভয়ংকর ৫টি মরুভূমি

তাকলামাকান মরুভূমি

ভয়ংকর ৫টি মরুভূমি যেখানে আটকে পড়ার কথা কল্পনাও করবেন না
তাকলামাকান মরুভূমি, চীন। Photo: Public Domain

বিশ্বের অন্যতম শুষ্ক এবং ভয়ংকর একটি মরুভূমি তাকলামাকান। ফার্সি ভাষায় এই শব্দের মানে যেখান থেকে কেউ ফেরে না। কারো মতে তুর্কী শব্দ তাকলাম মাকান থেকে এসেছে নামটি যার মানে মৃত্যুর জায়গা। চীনের দক্ষিণ পশ্চিমের জিনজিয়ান উইঘুর প্রদেশে অবস্থিত এই মরুভূমিটি। তিনদিকে পর্বত দিয়ে বেষ্টিত মরুভূমির পূবে রয়েছে গোবি মরুভূমি। এর আয়তন ১ লাখ ৩০ হাজার বর্গমাইল। এই মরুভূমিটি শুষ্কতম মরুভূমির একটি। বছরে মাত্র ১ সেন্টিমিটারের মতো বৃষ্টি হয় এই মরুভূমিতে। চরমভাবাপন্ন মরুভূমিতে দিনের বেলা তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। আর রাতে তা নেমে যেতে পারে হিমাংকের ২০ ডিগ্রি নিচে। মরুভূমিতে পানির উৎসও রয়েছে খুবই সামান্য। যে কারণে, উঁচুনিচু বালিয়ারিতে ভরা এই মরুভূমিতে সবুজের চিহ্ন চোখেই পড়ে না।

মোহাভি মরুভূমি

ভয়ংকর ৫টি মরুভূমি যেখানে আটকে পড়ার কথা কল্পনাও করবেন না
মোহাভি মরুভূমি, উত্তর আমেরিকা। Photo: Public Domain

উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে শুষ্ক মরুভূমি এটি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ পূর্ব ক্যালিফোর্নিয়া এবং দক্ষিণ নেভাদার মধ্যে অবস্থিত এই মরুভূমির আয়তন ৪৭ হাজার ৮৭৭ বর্গমাইল। এই মরুভূমিতেই রয়েছে কুখ্যাত ডেথ ভ্যালি বা মৃত্যু উপত্যাকা যেখানে তাপমাত্রা ৪৯ থেকে ৫৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠে যায়। বছরে ১৩ ইঞ্চির নিচে বৃষ্টি হওয়ায় খুব সামান্যই পানি পাওয়া যায় এখানে। অদ্ভুত জশুয়া গাছটি একমাত্র এখানেই দেখতে পাওয়া যায়। এছাড়া কুগ্যার বা র্যাটল স্নেকসহ বিভিন্ন অসাধারণ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন প্রাণীর বাস এই মরুভূমি।

সাহারা মরুভূমি

ভয়ংকর ৫টি মরুভূমি যেখানে আটকে পড়ার কথা কল্পনাও করবেন না
বিশ্বের সবচেয়ে বড় শুষ্ক মরুভূমি- সাহারা। Photo: Public Domain

বিশ্বের সবচেয়ে বড় শুষ্ক মরুভূমি এটি। এর আয়তন ৩৬ লাখ বর্গমাইল যা চীন বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আয়তনের কাছাকাছি। উত্তর আফ্রিকার বেশিরভাগ জায়গা জুড়েই বিস্তৃত এই মরুভূমি। বিচ্ছিন্ন পাথর এবং বালির ঢিবি ছড়িয়ে আছে মরুভূমি জুড়ে। কোনো ঢিবির উচ্চতা ৬০০ ফুট পর্যন্তও হতে পারে। গরমের সময় মরুভূমির কিছু কিছু জায়গার তাপমাত্রা ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে উঠতে পারে। আর দিনের বেলা বালির তাপমাত্রা উঠতে পারে ৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে। বছরে খুব সামান্যই বৃষ্টি হয় এখানে। যে কারণে খুব অল্প সংখ্যক গাছ ও পশুপাখির বাস এই মরুভূমি।

কালাহারি মরুভূমি

ভয়ংকর ৫টি মরুভূমি যেখানে আটকে পড়ার কথা কল্পনাও করবেন না
কালাহারি মরুভূমি। Photo: Public Domain

কালাহাইর শব্দের বাংলা মানে করলে দাড়ায় ‘প্রচণ্ড তৃষ্ণা’। নাম শুনেই বুঝতে পারছেন এই মরুভূমিটি কতটা ভয়ংকর হতে পারে। বতসোয়ানা, নামিবিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে বিস্তৃত এই মরুভূমি। সাড়ে ৩ লাখ বর্গ মাইল আয়তনের এই মরুভূমিটি মূলত বিস্তির্ণ বালিময় ভূমি। এখানকার দিনের তাপমাত্রা কখনো কখনো ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠে যায়। তবে, বছরের বেশিরভাগ সময় অন্যান্য মরুভূমি অপেক্ষা কম তাপমাত্রা দেখা যায় এখানে। কিন্তু এই মরুভূমিতে পানির অভাবই ভয়ের কারণ। তারপরও, বৈচিত্রময় উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেখা পাওয়া যায় এই মরুভূমিতে।

আতাকামা মরুভূমি

ভয়ংকর ৫টি মরুভূমি যেখানে আটকে পড়ার কথা কল্পনাও করবেন না
বিশ্বের সবচে পুরোনো মরুভূমি- আতাকামা মরুভূমি। Photo: Public Domain


আন্দিজ পর্বতমালার পশ্চিমে অনেক উঁচুতে ৪১ হাজার বর্গ মাইল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত মরুভূমিটির নাম আতাকামা। সবচেয়ে শুষ্ক এই মরুভূমিটি বিশ্বের শুষ্কতম স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম। মনে করা হয়, এটিই বিশ্বের সবচে পুরোনো মরুভূমি। ৩০ লাখ বছর ধরে এখানে এমন চরমভাবাপন্ন আবহাওয়া বিরাজ করছে বলে ধারণা করা হয়। এখানে বছরে মাত্র ১৫ মিলিমিটারের মতো বৃষ্টিপাত হয়। বলা হয় মরুভূমির কোনো কোনো জায়গায় গত ৪০০ বছর ধরে একদমই বৃষ্টি হয়নি। চরমভাবাপন্ন আবহাওয়া এই মরুভূমির অন্যতম বৈষিষ্ট্য। অপ্রত্যাশিত তুষারপাত বা হড়কা বান এই মরুভূমিকে অন্যতম ভয়ংকর জায়গায় পরিণত করেছে।