খুশকি দূর করার উপায় কি এ নিয়ে চিন্তার শেষ নেই অনেকেরই। ওষুধ-ডাক্তার অনেক কিছুর শরণাপন্ন হয়েও মাথার খুশকি দূর হয়নি পুরোপুরি। চিন্তায় চিন্তায় মাথার চুলই হয়তো ঝরে যাচ্ছে আপনার। কিন্তু, একটু সচেতন হলেই শুধুমাত্র ঘরোয়া পদ্ধতিতেই খুশকি দূর করা সম্ভব।

খুশকি দূর করার উপায়? জেনে নিন ঘরোয়া পদ্ধতিতে খুশকি দূর করার টিপস

খুশকি দূর করার জন্য নিয়মিত চুলের যত্ন নেয়া প্রয়োজন। এছাড়া ঘরোয়া পদ্ধতিতে খুশকি দূর করার ১৭টি টিপস জেনে নিন।

১. চিরুনি, চুল মোছার তোয়ালে বা আনুষঙ্গিক আলাদা আলাদা রাখুন। নিয়মিত চিরুনি, তোয়ালে, বালিশের কভার ও বিছানার চাদর পরিস্কার রাখতে হবে।

২. চুল ভেজা রাখবেন না এবং ভেজা অবস্থায় চুল না আঁচড়ানো ভালো।

৩. চুলে সপ্তাহে অন্তত একদিন নারিকেল তেল ব্যবহার করুন।

৪. নারিকেল তেল হালকা গরম করে সপ্তাহে একদিন মাথার ত্বকে ঘষে ঘষে দিন। পরে মাথা শ্যাম্পু দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।

৫. হালকা গরম পানিতে তোয়ালে ভিজিয়ে মাথায় ২০ মিনিটের জন্য জড়িয়ে রাখুন। পরে শ্যাম্পু দিয়ে মাথা ধুয়ে ফেলুন। গরম ভাপে মাথার তালু থেকে খুশকি সহজেই উঠে আসবে। এটি পরপর তিন সপ্তাহ করলে, ভালো ফল পাওয়া যাবে।

৬. খুশকি দূর করতে লেবুর রস বেশ কার্যকরী। নারিকেল তেলের সাথে লেবুর রস মিশিয়ে বা টুকরো করে কাটা লেবু মাথার ত্বকে ঘষে ঘষে লাগান। কিছুক্ষণ রেখে শুধু পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। পরদিন শ্যাম্পু দিয়ে মাথা পরিষ্কার করুন।

৭. চুল পরিস্কার করার পর এক মগ পানিতে একটি লেবুর সম্পূর্ণ রস মিশিয়ে তা দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। এতে খুশকি যেমন কমবে, তেমনি চুলও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।

৮. কর্পুর পানিতে বা তেলের সাথে মিশিয়ে মাথার ত্বকে ম্যাসাজ করে ব্যবহার করুন। একদিন রেখে পরদিন শ্যাম্পু দিয়ে মাথা পরিস্কার করে ফেলুন। কর্পুর খুশকি দূর করতে বেশ কাজে দেয়।

৯. খুশকি দূর করতে পেঁয়াজের রস একটি মোক্ষম হাতিয়ার। একটি পেঁয়াজ থেঁৎলে নিয়ে এর রস চুলের গোড়ায় লাগিয়ে কিছুক্ষণ রাখুন। পরে চুল ধুয়ে ফেলুন।

১০. চুলে নিয়মিত ব্রাশ বা চিরুনি ব্যবহার করুন। ব্রাশ বা চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ালে মাথার ত্বকের রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে। এতে চুল ভালো থাকে ও ত্বকের মরা চামড়া বা খুশকি উঠে আসে।
খুশকি বেশি হলে একদিন পরপর মাথায় মানসম্পন্ন খুশকি প্রতিরোধক শ্যাম্পু ব্যবহার করুন।

১১. গরুর দুধে আমলকি ৪/৫ ঘন্টা ভিজিয়ে রেখে পেস্ট করে নিন। এই পেস্ট চুলের গোড়ায় ঘষে ঘষে লাগান। অন্তুত এক ঘন্টা রেখে মাথা পরিস্কার করে ফেলুন।

১২. আমলকির সাথে কয়েকটা মেহেদী পাতা বেটে চুলের গোড়ায় লাগাতে পারেন। এই পদ্ধতিতেও দ্রুত খুশকি দূর করা সম্ভব।

১৩. প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। টাটকা ফল, সবজি ও প্রোটিন জাতীয় খাবার বেশি বেশি খাওয়ার অভ্যাস করুন।

১৪. জবা ফুল, আমলকি ও জলপাই একসঙ্গে বেটে পেস্ট করে চুলে লাগান। আধঘণ্টা পর শ্যাম্পু দিয়ে মাথা পরিস্কার করে ফেলুন।

১৫. দূর্বা ঘাস, নিমপাতা পেস্টের সাথে ভিনেগার ও শসার রস মিশিয়ে নিন। এটি মাথার তালুতে ঘষে ঘষে লাগিয়ে আধঘণ্টা পর শ্যাম্পু দিয়ে চুল পরিস্কার করে ফেলুন।

১৬. তুলসি পাতা বাটার সঙ্গে কর্পুর ও লেবুর রস মিশিয়েও চুলের গোড়ায় লাগাতে পারেন।
কাঁচা আমলকি ছেঁচে নারকেল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে বোতলে ভরে দুই-তিন দিন রোদে শুকিয়ে নিন। সপ্তাহে দুদিন এই তেল মাথায় লাগালে ভালো ফল পাবেন।

১৭. মেথী বাটা, আমলকির রস, ডিমের সাদা অংশ ও টকদই পানির সাথে মিশিয়ে মাথায় দিয়ে আধঘণ্টা রাখুন। পরে চুল শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

উপরে উল্লিখিত টিপসগুলো অনুসরণ করুন। এরপরও চুলে খুশকির সমস্যা থাকলে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন।